ছবিতে বামে ভক্তিভরে জোড় হাতে সদানন্দ দাস অধিকারী। ডানে পুত্রবধূ ও কন্যার মাঝে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী সত্যভামা দাসী/ ছবি-সৌরভ চৌধুরী
ওয়ারেন, ৩ আগস্ট : ভক্তি, আত্মসমর্পণ ও ঈশ্বরপ্রেমের এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশে শিব মন্দির টেম্পল অব জয়ের একনিষ্ঠ ভক্ত স্বদেশ রঞ্জন সরকার গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করেছেন। ভারতের কলকাতার গৌড়ীয় বৈষ্ণব মঠের সভাপতি পরম পূজ্য গুরুদেব শ্রীমৎ ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী গোস্বামী মহারাজের করকমলে তিনি ও তাঁর সহধর্মিণী শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।
দীক্ষার মাধ্যমে তাঁরা পূর্বের লৌকিক পরিচয় পরিত্যাগ করে নতুন আধ্যাত্মিক পরিচয় লাভ করেন। স্বদেশ রঞ্জন সরকার এখন থেকে সদানন্দ দাস অধিকারী এবং তাঁর সহধর্মিণী সত্যভামা দাসী নামে পরিচিত হবেন।
গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনে দীক্ষাকে আত্মার দ্বিতীয় জন্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মাধ্যমে একজন ভক্ত জাগতিক মোহ, অহংকার ও ভোগবৃত্তি ত্যাগ করে শ্রীশ্রী রাধা-কৃষ্ণের চিরন্তন সেবায় নিজেকে নিবেদন করেন। নতুন নাম গ্রহণের মধ্য দিয়ে ভক্ত নিজের পার্থিব পরিচয়কে অতিক্রম করে ঈশ্বরের চিরসেবক হিসেবে আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা করেন। এটি কেবল নাম পরিবর্তন নয়, বরং এক নতুন আধ্যাত্মিক জীবনের সূচনা।
এই শুভক্ষণ উপলক্ষে রোববার দুপুরে ওয়ারেনের শিব মন্দির টেম্পল অব জয়ে এক মনোমুগ্ধকর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শ্রীশ্রী রাধা-মাধবের পূজা, পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ এবং হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ ভক্তিময় পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে। অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে হরিনাম সংকীর্তনে মগ্ন হন।
অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আলোচনা করেন দিবাকর প্রভু ও তমাল প্রভু। তাঁরা বৈষ্ণব দর্শনের মূল শিক্ষা, গুরু-শিষ্য পরম্পরার মাহাত্ম্য এবং ভক্তিমার্গের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে ভক্তরা আধ্যাত্মিক জীবন, নামসংকীর্তনের মাহাত্ম্য এবং শ্রীকৃষ্ণভক্তির অপরিসীম কল্যাণ সম্পর্কে অনুপ্রাণিত হন।
ধর্মীয় আয়োজনের একপর্যায়ে প্রাণবন্ত কীর্তন ও হরির লুট অনুষ্ঠিত হয়। ভক্তদের উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণে পুরো পরিবেশ আনন্দ, ভক্তি ও ঈশ্বরপ্রেমে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকল ভক্তের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

নিজস্ব প্রতিনিধি :